ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মহাস্থানগড় পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলের প্রাচীন রাজধানী পুণ্ড্রনগরের (পৌণ্ড্রবর্ধনপুরের) ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে চলেছে, যা বাংলাদেশে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম নগর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। ১৯৩১ সালে আবিষ্কৃত একটি ভূমি দানের বিবরণসংবলিত ব্রাহ্মী লিপিতে খোদিত ছয় লাইনের প্রাকৃত ভাষার চুনাপাথরের ফলক এই স্থানটিকে অন্তত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর বলে প্রমাণ করে, যা একে মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরে পরিণত করে। এই সুরক্ষিত দুর্গ নগরী মৌর্য যুগ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর সেন রাজবংশ পর্যন্ত একটি প্রাণবন্ত প্রশাসনিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, এবং এর ধ্বংসাবশেষ হিন্দু, বৌদ্ধ এবং পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মের স্তরে স্তরে গড়ে ওঠা ধর্মীয় ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটায়। ১৯২৮-২৯ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের কে. এন. দীক্ষিতের তত্ত্বাবধানে পদ্ধতিগত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়, যাতে জাহাজঘাটা, মনির ঘোন ও বৈরাগীর ভিটাসহ বিভিন্ন এলাকা উন্মোচিত হয়। ১৯০৪ সালের প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী ১৯১৯ সালে মহাস্থানগড়কে সংরক্ষিত নিদর্শন ঘোষণা করা হয়, এবং ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।